বিধু ভূষন নাথ পলাশ
‘তো কেমন করে বুঝলি যে ....’ বলতে না বলতেই মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে মিং বলতে লাগল, ‘দেখ মং, মানুষের মনুষ্যত্ব থেকে আমাদের মশকত্ব ঢের ভাল। মশারি-কয়েল নিপাত যাক! বোঁওও..বোঁওও’, বলেই রাগে বনবন পাখা নাচাতে লাগল। একটু দমে গিয়ে মং আবার শুরু করল, ‘শোন্ সে কথাইতো বলতে যাচ্ছিলুম, সেদিন পচা ডোবার জটলায় বহুত-বেশ ঝকমারি হয়ে গেল বুঝলে......।’ আবার কথা টেনে নিয়ে মিং আরম্ভ করে। মং মনে মনে ভাবে, এর সাথে কথা বলে শান্তি নেই। কথা তুলতেই দেয় না। তারপরও শোনে সে। কি আর করা বহু দিনের পুরোনো বন্ধু বলে কথা। একবার ঠ্যাং এদিকে আরেকবার সেদিকে তার নিজস্ব বক্তৃতা ভঙ্গিমায় বলতে আরম্ভ করে মিং, ‘মানবজাতি ভয়ংকর, আমাদের ভ্রুণ হত্যাকারী। শিক্ষিতেরা বেশি পাঁজি।’ মং চুপ করে তাকিয়ে শোনে। কারন কিছু বলে লাভ নেই। ও নিজেরটাই চালাবে। বাকিদের মুখ খোলা তো দুরে থাক। মাথাই তুলতে দেবে না।
চোখ-মুখ লাল করে মিং আবার বলতে আরম্ভ করে, ‘একটা শিক্ষিত মাস্টার মশাই ছাত্রকে অংক করতে দিয়ে দপাদপ দশ-দশটি মশাকে মেরে একেবারে সাবড়ে দিলে। কোনো বিকার নাই হে! পরে দেখি দার্শনিক সেজে অন্যমনস্কতা হচ্ছে। ছেঃ ছেঃ অমন শিক্ষার মুখে আগুন।’ মং এতক্ষণে টের পেল, এত জ্বালাময়ী বক্তব্যের উৎসাধার কোথায়। বুঝল আজ ওখানে সুবিধা করতে না পেরে এখানে এসে শ্লোগান ঝাড়ছে। এদিকটায় ডাস্টবিন থেকে আসা মশার দল চেঁচামেচি শুনে দাড়িয়ে গেল। মিং শ্রোতা পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে বলতে শুরু করল, ‘শুনে রাখ, শেষ বিকেলে মাঠে-ময়দানে মানুষের মাথায়-মাথায় বনবন করে ঘোরা মশার চাকেরা ইউনিয়ন করেছে। দশ চড়েও ওদের কিচ্ছু হয় না। উল্টো মানুষই হাতে হাতে গাট্টা খায়। এই হল ওদের বিদ্যের ফল। আর আমরা সব ভুড়ঙ্গে বজ্জাত। পঁচা ডোবা নিপাত যাক!’ এসব শুনে এক বুড়ি মশা বলল, ’যত্তসব! একে তো দুষিত রক্ত খেতে খেতে প্রাণ যায়। হার্টের অসুখ, ডায়বেটিস, গিঁটে বাতে জীবনের দফারফা, তার ওপর এসব ইয়ার্কি-ফাঁজলামো।’ ভিড়ের মধ্যে একজন চেঁচিয়ে বলল, ’ও মশাই জাত তুলে কথা কইছ যে, বেশি ভাল হবে না বলে দিচ্ছি। এখানে খাটের তলা, সোফার তলা, ভাড়ার ঘর, পড়ার টেবিল থেকে আসা অনেক গন্যমান্য মশারাও আছেন।’ ’কি করবি রে শুনি,’ বলেই এগিয়ে আসে মিং। ভিড় ঠেলে মস্তান মশাটিও বেরিয়ে আসে। ওর দশাসই চেহারা ও পেশিবহুল গতর দেখে মিং ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। একটু মাথা চুলকে পিছু হটে। তবুও তুমুল তর্ক বেঁধে যায় সেখানে।
মং চুপি চুপি বেরিয়ে এসে ছোটে ফুল বাগানের ঘাটে। ওটা ওর একটা প্রিয় জায়গা। ওখানে আড্ডায় দু’একজন পড়ার টেবিল, বুকসেলফের বুদ্ধিজীবী মশার সন্ধান মেলে। বেশ জমিয়ে আড্ডা মারা যায়। সেখানে একজন একবার দার্শনিকের মত গালে হাত দিয়ে বলছিল, ’মাত্রতো ৩/৪ দিনের জীবন, তাও যদি একটু নিরাপদে থাকা যেত। মশারি, কয়েল, ম্যাট, ইলেকট্রিক নেট- জীবনটা একেবারে জালিয়ে দিলে।’ খানিক ভ্রু কুঁচকে অন্যজন বললে, ’তাছাড়া বিভেদ, বুঝলেন বিভেদ, মানে ভেদাভেদ অর্থাৎ জাতপাত আর কি! এই যেমন কেউ রক্ত খায়, কেউ পাতা খায়, কেউ নোংরা খায়, কেউ ফল খায়। কেউ যায় খাট পালংকে, চেয়ার-টেবিলে, সোফার নীচে, কেউ যায় নর্দমায়, কচুরী পানার ডোবায়, মাঠে ঘাটে- এসব নিয়ে এত জাতবাহাদুরী কেন বাপু। অভ্যাসটা পাল্টালে ক্ষতি কি?’ চুপ করে থাকা এক বৃদ্ধ মশা বলতে শুরু করল, ’মানুষদের মধ্যেও এরকম ভেজিটেরিয়ান এবং ননভেজ রয়েছে, বুঝলেন কিনা। আজকালকার ছেলে ছোকরারা নাকি কোথায় কোথায় বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যে ফলাচ্ছে, বুঝলেন কিনা। কি দরকার বাপু ওসব ঝুট ঝামেলায়, বুঝলেন কিনা।’ “বুঝলেন কিনা” শুনতে শুনতে ফিক করে হাসি বেরিয়ে এল সবার।
হঠাৎ মিং কোত্থেকে উড়ে এসে ধাম করে পড়ল সবার মাঝে। পড়েই হাঁপাতে লাগল। বোধ হয় পঁচা পুকুরের মশাদের তাড়া খেয়েছে। মং ব্যস্ত হয়ে বলল, ’কি হয়েছে, কি হয়েছে।’ ’থাক আর আদিখ্যেতা করতে হবে না।, বিপদ দেখে সটকে পড়লে, আবার কি হয়েছে বলা হচ্ছে!’ বলেই হাত সরিয়ে দিল মিং। আবার বলতে শুরু করল, ’বিপদেই বন্ধুর পরিচয়।’ বলেই আবার হাঁপাতে লাগল। সবাই সকরুণ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। স্থির হয়ে এবার শান্ত শীতল দৃষ্টি সবার দিকে বুলিয়ে নিল মিং। ঠান্ডা মাথায় বলতে লাগল, ’আমায় ক্ষ্যাপাটে বলতে পার। উগ্র বলতে পার তোমরা। জেনে রাখ আমরাই একমাত্র রক্ত শোষণ করি না। মানুষের মধ্যেও একদল শোষক আছে। তারা নিজেদের জাতিকেই শোষণ করে। আর আমরা নিজেদের জাতকে কখনো শোষণ করি না। মশায় মশার রক্ত খায় না। এদিক থেকে আমরা মানুষ থেকে এগিয়ে, উন্নত পর্যায়ের। জাতপাত ভুলে আমাদের এক হতে হবে। নইলে বাঁচার উপায় নেই।’ মুখ ভেংচিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে এক অভিজাত মশা বলল, ’আমরা এডিস মশা। ভাল জলে, ফুলের টবে জন্মাই। আমাদের সাথে নর্দমার মশার কি তুলনা চলে মশাই!’ নেংটি পরা এক বস্তির মশা বলল, ’ভাল জলে ফুলের টবে বাবু মশারা জন্মান। আর মানুষের ডেক্সগুজ্বর বাঁধিয়ে সর্বনাশ করেন। মশা জাতির কলংক! শয়তানের শয়তান!!’ এবার উঠে গিয়ে আক্সগুল উচিয়ে উত্তর করল সে, ’আর তোমরা যে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া বাঁধিয়ে দিয়ে ভারি উপকার করছো মানুষের, সে বেলা?’ এবার এক যুবক মশা মাঝখান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ’তোমরা থামবে! নিজেদের মধ্যে এসব অর্থহীন বাক-বিতন্ডার কোন মানে নেই।’
হঠাৎ যেন হাওয়া পাল্টে গেল। সবাই বক্তার দিকে ঘাড় ঘোরাল। নিস্তব্ধতা ভেঙে বলতে শুরু করল যুবক মশা, ’ডেক্সগুজ্বর বল, ম্যালেরিয়া বল, ফাইলেরিয়া বল এসবের কারনে আর কয়জন মানুষের মৃত্যু হয়। এরচে’ ঢের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় যুদ্ধে আর দুর্ভিক্ষে না খেয়ে। এটা কি আমাদের দোষ? মানুষ গর্ব করে, তারা সভ্যতা নির্মাণ করেছে। মাতৃহত্যা, পিতৃহত্যা, ভাতৃহত্যা, ভগ্নিহত্যা, জাতিহত্যা সহ এমন এমন অপরাধ তারা করে যাচ্ছে, তাতে পশুতো দুরের কথা আমাদের মত কীটেদেরই লজ্জা হয়।’ একজন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ’হুঁ, ঠিক কথা।’ আরেকজন সমর্থন করে বলল, ’ছোকরার বিদ্যে আছে, কি বল?’ ’ও নিশ্চয়ই পড়ার টেবিল বা বুকসেলফের মশা। নইলে এত কথা জানবে কি করে, ভারি হেসে গর্ব করে বলল একজন। এবার সাইরেন বাজল। এক ভবঘুরে মশা এসে খবর দিল, ’শুনুন সকলে, একটু পরেই পূর্বের বাঁশঝাড়ে উচ্চাঙ্গ মশকগীতি আসর বসছে। সমঝদার শ্রোতাদের তাতে আমন্ত্রণ জানাতে বলেছেন আয়োজকরা।’
আঁতেল টাইপের এক মশা শুঁড় উঁচিয়ে বলল, ’আমার নাম মিমিমি, একটা প্রশ্ন করতে পারি মাননীয়?’ ভবঘুরে মশা সামনে, পিছনে, পাশে তাকিয়ে কিছু একটা খোঁজার ভঙ্গিতে বলল, ’কে...কাকে বলছে?’ ’হ্যাঁ আপনাকেই বলছি স্যার, আর মশকগীতি প্রসঙ্গেই বলছি’, হাসতে হাসতে বলল সে। ভবঘুরে থ হয়ে তাকিয়ে আছে। প্রশ্নকর্তা বলল, ’রোজ সন্ধ্যায় আমাদের মশা পাড়ায় পূবের বাঁশঝাড়ে গানের আসরে নামী-দামী সঙ্গীতজ্ঞ ও সমঝদার শ্রোতার অভাব হয় না। কিন্তু মানুষের কানের কাছে ওসব শোনালে ওরা এমন ক্ষেপে যায় কেন বলুনতো?” সকলে হা হয়ে তাকিয়ে আছে এ অনাকাঙ্খিত প্রশ্ন শুনে। এবার এক মশারির মশা তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ করে বলল, ’মশককুলের বিখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বোঁ বোঁ রাগের অপমান সহ্য করা হবে না। এই সঙ্গীতের প্রেরণায় আমরা গেরিলা কায়দায় মশারির ভেতর ঢুকতে পারি। একদল মশা মশারি তুলে ধরার কাজে উদ্বুদ্ধ হয়। তখন বাকিরা সুড়সুড় করে এর ভেতর ঢুকে যেতে পারে। তাছাড়া আজকাল টিভি চ্যানেলগুলোতে যে হিন্দি, ব্যান্ড, রক, জার্জ, র্যাপসং এসবের প্রচার চলছে তারচে’ আমাদের বোঁ বোঁ সঙ্গীত কোন অংশে কম নয়......।’ এভাবে শুরু তুমুল তর্কবিতর্ক।
তর্কের এক পর্যায়ে একটু ক্ষেপে গিয়েই এক আধুনিক চিন্তাধারী মশা বলতে লাগল, ’এই আপনাদের এক দোষ! একবার অন্ধভাবে কোনো কিছুকে সমর্থন করা, আরেকবার মতের সাথে না মিললে ধুন্ধুমার গালমন্দ করা। ঠিক যেন সরকার আর বিরোধী দল। টেলিভিশনে শুধু বাজে গানবাদ্য আর অবাস্তব কাহিনীই দেখায় না। দেশ বিদেশের না বলা সত্য কথাগুলোও আমরা জানতে পারি।’ ’হ্যাঁ ঠিক, ঠিক কথা, জোরালো সমর্থনের সুরে উঠে দাঁড়াল এক মশা। বলেই তার পাখাগুলো মেলে হেলিকপ্টারের মত চারদিক একপাক ঘুরে এসে মাঝখানে এসে বসল। এবারে সমানে দুটি শুঁড় উঁচিয়ে বলল, ’আদ্যপান্ত ঠিক কথা।’ তীক্ষ্মদৃষ্টিতে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বলল, ’আমার নাম পিপি। আমার পিসতুতো, মাসতুতো, পাড়াতুতো, সবতুতো ভাইদের নিয়ে আমাদের এলাকায় টেলিভিশনের সামনে বসা লোকেদের কুটকুট সুঁই ফুড়ে যা আসে ওতেই আমার কোনমতে চলে যায়! মাঝে মাঝে কে কার্টুন দেখবে, কে সিরিয়াল দেখবে, কে খবর বা টকশো দেখবে এটা নিয়ে চলে তর্কবিতর্ক আর রিমোর্ট নিয়ে চলে কাড়াকাড়ি। সে সুবাদে আমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি এই আজব যন্ত্রটার দিকে।’ এক রাগী মশা বলে উঠল, ’ধুত্তোরি! কিসব বলে যাচ্ছ, কাজের কথায় আস।’ ’হ্যাঁ হ্যাঁ সেটাই বলছি,’ কিছুটা সম্বিত ফিরে পাওয়ার ভঙ্গিতে বলতে লাগল সেই টেলিভিশনের মশাটি, ’একবার খবরে যা দেখলাম, শুনলাম, তাতে বুঝলাম, মানুষের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। একদল শুধু ভয় দেখাচ্ছে, আরেকদল ভয়ে থরথর কাঁপছে। একদল দানব মানুষ ভারী ভারী সব অস্ত্র নিয়ে অন্য দেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শুধু যুদ্ধ আর যুদ্ধ; নির্বিচারে চলছে মানুষ খুন। সকলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ’হুমমম!’
বহুক্ষণ তক্কে তক্কে থাকা এক ঢাউশ মশা ধীরে ধীরে বলল, ’ভদ্র মশামন্ডলী, আমি ডাইনিং টেবিলের মশা। নাম মমম।’ বলতেই এক হাড্ডিসার মশা মাথা-শুঁড় একসাথে নেড়ে বলে উঠল, ’তোমরা বেশ চালাক হে। বেশ কায়দা জান। মানুষ যে হাতে খায় সে হাতে না বসে অন্য হাতে বসো যাতে চড় কষাতে না পারে। আর চেয়ারে বসলে যেদিকে হাত নিতে অসুবিধে সেদিকেই সুঁচ ফোটাও।’
একটুও রাগ না করে ডাইনিং রুমের মশা বলল, ’জীবন বাঁচানোর তাগিদে সব প্রানীদেরই কায়দা কানুন জানতে হয় ভাই। তবে শোন, মাঝে মাঝে রক্ত খেতে গিয়ে যখন শুনি যে, মানুষই ঠিকমত খেতে পায় না। তখন মনটা বেশ দমে যায়। চাল, ডাল, তেল মাছ- তরকারি এটা ওটা সবকিছুর দাম নাকি সাংঘাতিক বেড়ে যাচ্ছে। ভাবি খাদ্যাভাবে এরা যে দিন দিন রক্তশূন্য হয়ে যাচ্ছে। আজকাল পেটভরে রক্ত খেতে বেশ খাটুনি করতে হয়। বুদ্ধিজীবী মশা মু এবার মুখ খুলল, ’এ নিয়ে আমিও খুব চিন্তিত। মানুষের দল নিজের বংশ নিজেরাই ধ্বংস করছে। অল্প কিছু লোভী মানুষের জন্য বাকিদের অবস্থা শোচনীয়।’
বড় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে বলল, ’এভাবে চললে পৃথিবীতে কি মানুষ থাকবে? মনুষ্যবিহীন পৃথিবীতে আমাদের সন্তানেরা রক্ত পাবে কোথায়!’
এমন সময় ভবঘুরে মশা এসে ব্যস্তসমস্ত ভঙ্গিতে বলল, ’বেশ তো সবাই মিলে সভা করছো। স্প্রে মেশিন আসছে; জান নিয়ে পালাও যে যেখানে পার।’ কথাটা উড়িয়ে দেয়ার ভঙ্গিতে খানিক মুচকি হেসে এক জাদরেল মশা বলল, ’থাক আর হুঁশিয়ার করতে হবে না।
এই সব সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ভেজাল মশার ঔষধ। ওতে আমাদের কিছুই হবে না। ঐ কিসব ম্যাট, কয়েলের উপর নৃত্যগীতি করেই আজকাল আমাদের সন্তানদের রাত কাটে।
এ সময় এক যুবক মশা সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বক্তৃতার স্বরে বলল, ’ভাইসব, কান্ডজ্ঞানহীন বোকা মানুষেরা এক ফোঁটা রক্তের জন্য আমাদের জীবনটা শেষ করে দেয়। অথচ নিজেরাই নিজেদের মরণ খেলায় মেতেছে; এ নিয়ে একটুও ভাবছে না। মশক জাতি কি মানুষের এ আত্মঘাতী কান্ড চেয়ে চেয়ে দেখবে? চলুন আমরা কিছু একটা করি।’ এক বাক্যে সকলেই তার কথায় সমর্থন ব্যক্ত করল।
একজন বলল, ’শুনেছেন, আজ একটা গানের আসর আছে। স্বাধীন মশক রাজ্য পাহাড় থেকে এক নামী রাগ বিশেষজ্ঞ এসেছে। এরপর বাচ্চারা মিলে নাচ করবে।’ আরেকজন বলল, ’চল জীবনের শেষ রাতটা উপভোগ করি সবাই মিলে।’
এরূপ কথোপকথন, হাসি-ঠাট্টা, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়েই আবর্তিত হয় কীট জাতীয় এসব প্রানীদের ক্ষুদ্র জীবনের অতি ক্ষুদ্রতর কাহিনী। একদিকে স্বল্পায়ু জীবন আরেকদিকে জন্মানোর সাথে সাথেই তারা নিয়ে আসে মৃত্যুর তাড়া। আগামীকালই হয়তো পৃথিবীতে থাকবে না মিং, মং, মিমিমি, মমম, মু এরূপ কোটি কোটি মশক। কিন্তু মানুষের সমাজ সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আলাপ আলোচনা সত্যি সত্যিই কী আমাদের লজ্জিত করে না? যদিও এসব আলোচনার কোন স্বাক্ষী বা সাক্ষ্য পৃথিবীতে আর বেঁচে থাকেবে না।
← Back to All Articles